মরাম আল-মাসরির ৫টি কবিতা। ভাষান্তর: ফারহানা রহমান

0
Showing 1 of 1

আকাঙ্ক্ষা আমাকে সম্পূর্ণভাবে ঘিরে থাকে
আর আমার চোখগুলো জ্বলজ্বল করে।
ন্যায়নীতিগুলোকে আমি ঠেসে ভরে রাখি
খুব কাছের কোনো ড্রয়ারে।
আমি একটি শয়তানে পরিবর্তিত হই
আর আমার সব ফেরেশতাদের চোখ বেঁধে দেই
শুধুমাত্র একটি চুমুর জন্য।

লোকটি খুব বেশিকিছু চায়নি
চেয়েছিল
একটি ঘর, বাচ্চাকাচ্চা
আর একজন প্রেমময়ী স্ত্রী
যে তাঁকে খুব ভালবাসবে
একদিন সে জেগে ওঠে
এবং সবকিছুর মর্ম খুঁজে পায়
বুঝতে পারে যে তাঁর অন্তরাত্মা বুড়িয়ে গেছে

নারীটিও খুব বেশিকিছু চায় না
সেও চায়
একটি ঘর এবং শিশু
আর একজন প্রেমময় স্বামী যে তাঁকে ভালবাসবে
একদিন সেও জেগে ওঠে
আর বুঝতে পারে
যে তাঁর অন্তরাত্মা
একটি জানালা খুলেছিল
এবং সেটি পালিয়ে গেছে

সে আমার কাছে এসেছিল
একজন মানুষের শরীরের ছদ্মবেশ নিয়ে
এবং আমি তাঁর প্রতি কোনো মনোযোগ দেইনি
সে আমাকে বললো
‘ সব খুলে ফেল।
আমি একজন পবিত্র আত্মা।‘
তাঁকে অমান্য করতে আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম
আর তাঁকে আমাকে চুম্বন করতে দিয়েছিলাম
তাঁর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি হেনে
সে আমার কুণ্ঠিত
স্তনগুলোকে উন্মোচিত করলো
আর আমাকে পরিণত করলো
একজন অপরূপা সুন্দরী রমণীতে।
অতঃপর তাঁর অন্তরাত্মা আমার
শরীরে প্রবাহিত করলেন
বজ্রপাত আর বিদ্যুৎ চমকানোর
গর্জন হোলো
এবং আমি বিশ্বাস করলাম।

লবণের দানার মতোই
তাঁরা জ্বলজ্বল করে উঠলো
অতঃপর গলে গেলো
এভাবেই তাঁরা চিরতরে অদৃশ্য হয়ে গেলো
ঐ মানুষগুলো
যারা আমাকে ভালোবাসেনি।

সেই রাতেই
বাবাকে হত্যা করেছিলাম
অথবা অন্য কোনওদিন
মনে নিই।
একটি সুটকেস নিয়ে পালিয়েছিলাম
দুচোখ ভরা স্বপ্ন
আর বিলুপ্ত স্মৃতি নিয়ে।
আর তাঁর সাথে তোলা
একটি ছবি সাথে করে।
যেটি তোলা হয়েছিলো আমার শৈশবে
যখন তিনি আমাকে কোলে করে ঘুরে বেড়াতেন।
বাবাকে কবর দিয়েছিলাম
গভীর সমুদ্রের মধ্যে
একটি খুব সুন্দর ঝিনুকের ভেতর ।
কিন্তু তিনি আমাকে খুঁজে পেলেন
ভয়ে থরথর করে কাঁপছি
ভীষণ একাকী
একটি খাটের নিচে লুকানো অবস্থায়।

মরাম আল-মাসরি, ফরাসি এবং আরবি ভাষায় লেখালেখির জগতে তাঁর প্রজন্মের সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং চিত্তাকর্ষক একজন কবি, লেখক এবং একজন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তাঁকে এসময়ের উল্লেখযোগ্য নারীবাদী কবিও মনে করা হয়। মাসরি ১৯৬২ সালের ২ আগস্ট সিরিয়ার লাতাকিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দামাস্কাসে ইংরেজি সাহিত্যে পড়ালেখা করেন এবং ১৯৮২ সালে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শেষ হলে তিনি ফ্রান্সে বসবাস শুরু করেন। তাঁর ১৫টি কবিতার বই রয়েছে। তাঁর কবিতার মূল বৈশিষ্ট্য এবং সৌন্দর্য হচ্ছে প্রতীক রূপকের সল্প ব্যাবহার এবং অলংকারহীনতা। তিনি অ্যান্টোনিও ভিকারো আন্তর্জাতিক কবিতা পুরস্কার। অ্যাডোনিস সাহিত্য পুরষ্কার এবং দান্তে আলিঘিয়েরি সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়াও ১৯১৭ সালে মরাম আল-মাসরিকে তাঁর কবিতা এবং গ্রাফিক কাজের জন্য পুরস্কৃত করা হয়। ঠু ইরোটিক বইটি তাঁকে আলোচনার শীর্ষে এনে দেয়। এছাড়াও আই অ্যালার্টেড ইউ হোয়াইট ডোভ; আই লুক অ্যাট ইউ; ফ্রিডম, সি কামস নেকেটসহ তাঁর বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বই রয়েছে। এখানে নির্বাচিত ৫টি কবিতার ভাষান্তর করা হয়েছে খালেদ মুত্তাওয়া কর্তৃক ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত অনুবাদ থেকে।

ফারহানা রহমান: কবি ও অনুবাদক

পাঠপ্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য
Showing 1 of 1
Share.

Comments are closed.