অমানুষ এক সার্কাসকর্মীফাঁকা মাঠে তুলেছে একটা ঘরআর চিৎকার করছে… এই ঘরে অমানুষ আছেঅমানুষ আছেঅমানুষ… তাকে কেন্দ্র করে অনেক লোকের ভিড়একে একে ঢুকছে ঘরে সাক্ষাতের জন্য—ফিরছে কালিমুখে সকলেই।কৌতূহলবশত আমিও গেলাম;ফাঁকা ঘরচারপাশে আয়নার দেয়ালআমি— আমারই অবয়ব। মহাজনের ব্লাডব্যাংক সামনে হলুদ ভুঁই— এপাশে পুকুরধার ঘেঁষে মাচায় ফুটে আছে পটল ফুলওপাশে ধান ক্ষেত— একটা…
Author: Dichterin
ইলিশ কাঁটা আলোকিত পায়রার দলেবাকুম বাকুম গান চলেআলোকবৃক্ষতলে ছায়াসুদূরের তুমি হয়ে জ্বলে মুগ্ধতা ফের আসে, ফেরটান তোলে তুমিগন্ধেরসব মায়া তোমারই তো মায়াসব মদ একই মাদকের প্রাপ্তির ঘোর হয় দৃঢ়আমাকে নতুন করে ছিঁড়োআঁশে দিয়ো ব্যথা পুরাতনধুতে হয় মহামন্দিরও নাই তবু শুধু আছো তুমিচন্দ্রের প্রস্তরভূমিশুক্ল-অমায় উচাটনচুপি চুপি ছায়া ধরে চুমি মেলা আছে…
স্বভাব সুন্দর জানি আজকাল কথা বলতে ভালোলাগেনা।কথার পিঠে কথা। কথার পিঠে লাগানো পাখা জোড়া…জানি গ্যাস বেলুনের মত আকাশের কোনো কোণেগিয়ে জমা হচ্ছে কথাদের প্রস্তরীভূত মেঘ।পাথরের চেয়ে বেশি কঠিন এসব কথাবড্ড পাড় ভাংছে ব্যাথায় ব্যাথায়।জানি আজকাল বড় বেশি একা আর সঙ্গতিহীন এসব কথারা মায়ায় পড়ে যাচ্ছে।বাঁধন কি খুব শক্ত মনে হয়…
এভরিবডি’স মেকিং লাভ অর এল্স এক্সপেক্টিং রেইন ভেজে উপশহর, ব্রিটিশ কাউন্সিল।কাদায় থপথপ পা ফেলে রিকশায় চড়তে মনে পড়ে তোমার বাসক পাতার ঘ্রাণ।সোঁদা গন্ধের থেকে বহুদূরে ঠেলে দ্যায় তা।রাত-ভোর বৃষ্টি বেঁধে রেডি করি প্রেজেন্টেশনের খসড়া।‘এ ফ্রিহুইলিন’ টাইম’ বারবার বাঁধ সাধে তাতে।তবুও বৃষ্টির তালে ভিজতে থাকে ইলেক্ট্রিসিটির তার, আর ব্লু জিন্সের কদমের…
অভিসারী একে একে সব খুলছে কপাট, অন্ধ বাতাস মুক্ত একলা…জবা গোঁজা চুল মহুয়া ঝরায়ে, নৈঃশব্দ্য সহযাত্রী।তোমার শরীরে আল্পনা আঁকে মঙ্গলদীপজোনাক আলো।চেয়ে দ্যাখো, ওই ঝলসানো চাঁদ জোয়ারের জলেমাহুলি জোৎস্না-ঘাসের আঁচলে সাজাবে সন্ধ্যা একটি রজনীগন্ধা।খোলা জানালায় ভাঁজ হয়ে বয় রুপালি আলোর ঝর্না। যুগলবন্ধন হাতটা বাড়াও সটান সোজা বন্ধু-চিরন্তনহাতের ওপর হাতটি রাখোউষ্ণতার হোক…
টিভি বন্ধ করো না। ভয় করো না আমি কাঁদবো না।আমি বেশ বুঝি মিথ্যে খবর পড়ে যাচ্ছে যে নিউজম্যানসে ব্রুকলিন,কিংবা প্যারিসে থেকেছে চিরকাল,সাইরেন আর জ্যাজ মিউজিকের আওয়াজের তফাৎ সে জানে না।আমি ওকে তাই ঘৃণা করি না। খাকি পোশাকে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে যাচ্ছেযে ছেলেটিকে তাঁকে দেশপ্রেমিক না বলে দেশদ্রোহীবলছে বলে আমি…
১ঝরা পালকশত হাজার কাকশোকে ও শোধে ২জোড়া চড়ুইছাদজানালা ঘরউদ্বাস্তু ৩ঝিঁঝির রাতকর্ণকুহরে ওঁশান্তি ওম ৪জলের ঢেউবালু ফেরিওয়ালাচরে বসতি ৫গন্ধে ম-মসাড়ে তিনের টবফুলটি সাদা কবি পরিচিতি:মুহাইমীন আরিফ। স্থায়ীনিবাস কুমিল্লা, বাংলাদেশ। পেশায় শিক্ষক, পদবি অধ্যক্ষ। চাকরিসূত্রে সিলেটে বাস। অ্যাকাউন্টিং নিয়ে স্নাতকোত্তর করলেও সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ ছোটোবেলা থেকেই। হাইকু ছাড়াও প্রবন্ধ, ছোটোগল্প, অণুগল্প লিখে…
পথ শুধু ভেঙ্গে আসা নয়পাষাণ পাথর কেটে নয় বুঝে নেয়াশুধু মুখর ফুলের পরিবাসপায়ে পায়ে এ এক একাকীতম’র ইতিহাস।ধুলোয় ধুলোয় বেড়েছেঅগোচরে যদিওবা দীর্ঘ ক্লান্তির ঋণতবু নিরুচ্চার নির্ঘুম সে সুপ্রাচীন।বানীহারা সভ্যতারওআনন্দ-ব্যথার ইশারায় আঁকাবাঁকা্বয়ে চলেছে পৃথিবীআসলে আমাদেরই চোখের জলের ক্ষীণ রেখা! হেসে সক্লেশে এও এক জীবন কথনফুলের রচনা শিখেআধা বাটি অন্ন আনেআধোপেট রক্তবমন।…
লুই আরাগোঁ (১৮৯৭-১৯৮২) বহুমুখী প্রতিভায় একজন উল্লেখযোগ্য ফরাসি কবি, ঔপন্যাসিক, প্রবন্ধকার, সাংবাদিক ও রাজনীতিক। কবিতা ছাড়াও, পরাবাস্তববাদী উপন্যাস এবং বাস্তববাদী উপন্যাস এবং সমাজতান্ত্রিক বাস্তববাদ নিয়ে অনেক প্রবন্ধ লিখেছেন। কবিতা যখন ধারাবাহিক ঐতিহ্যের মধ্যে দ্বিধাগ্রস্ত, যুদ্ধপূর্বাবস্থয়ায় প্রবল উত্তেজনা ও অস্থিরতায় কবি তার অস্তিত্বের অনুসন্ধান করছে, সেই সময়ে ফরাসি কবিদের মধ্যে আরাগোঁ…
“If there any good soul passing by this way, please contact with us ” রাত বারোটার পর একটা বড় মোমবাতির আলোর চারদিকে আমরা একটা কাঁচা টাকার বুকে আঙ্গুল ছুঁয়ে বসে আছি। স্কেচ বোর্ডের সাদা জমিনের মধ্যগগণে কাঁচা টাকার বুক ছুঁয়ে আমরা চারজন মৃত আত্মাকে ডেকে চলেছি। বোর্ডের ক্লিপে আঁটা সাদা…