মনিস রফিক (তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর ছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে দুই আশা জাগানিয়া পুরুষ। দু’জনেই একসাথে কাজ করেছেন চলচ্চিত্রে, একজন পরিচালনায় আর একজন ক্যামেরায়। তাঁদের কাজের শৈল্পিকতা সব সময়ই দর্শকদের মুগ্ধ করে। বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বে তাঁরা তাঁদের কর্মের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। ২০১১ সালের ১৩ই আগস্ট চলচ্চিত্রের শুটিং লোকেশন থেকে ফেরার…
Author: Dichterin
স্বাধীনতা: বাবার আঙুল ধরে হাঁটি মায়ের ভাতঘুম দুপুরগুলো দুই ভাইবোনের জন্য ছিলো টো টো ছুট। পাদ্মানদীর পাড় তখন লাল ইট – স্টিল তার দিয়ে বাঁধানো। মাঝে মাঝে নদীর ভেতর ছোটো ছোটো বাঁধ আড়াআড়ি ঢুকে গেছে। তাতে আকন্দ, ভাঁটফুল এর ঝোঁপ। জল শুকিয়ে গেলে ফটফটে সাদা বালুর চড়। চৈত্র মাসের সে…
অনতিক্রম্য দূরের অন্বয় নিয়ে ভাবতেছে একটা মেঘে-ঢাকা সকালযে সকালটা বিষণ্ণ আলোয় পড়ন্ত বিকালের মতো হয়ে আছে, তার মধ্যে অতীত সময়ের প্রত্ন কিছু খাত জড়ো হয়ে, ভিড় করে মুখ তুলতে চাইছে যেমন করে মুখ তুলতে চায় কালো থকথকে তৈলাক্ত পানির অবরোধ ভেঙে বুড়িগঙ্গার কোনো অবলুপ্তপ্রায় প্রাণীর শ্বাস…আর শ্বাসরুদ্ধকর পাতারা ঝরে পড়ে…
রফিক জিবরান জাপানি শিল্পসাহিত্যে নৈশব্দের উপস্থিতি অনুভব করা যায়। কবিতা, চিত্রকর্ম, থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র, সবখানেই। জাপানিদের জীবনাচারণ থেকেও এটা অনুভব করা যায়। যেমন, হয়তো অনেক জাপানিদের সাথে আমরাও একমত হতে পারি যে- চেরিফুলের সৌন্দর্য উপভোগ বা দেখার চেয়ে প্রধানত অনুভবের। এই উপলব্ধির শেকড় হয়তো তীর্থঙ্কর মহাবীর এবং গৌতম বুদ্ধের…
মুহাইমীন আরিফ ১ঘুড়ির গোঁৎওড়া আশা-হতাশানাটাই টান ২মাছশরীরজালের সুতোপ্যাঁচজেলের হাসি ৩ওড়া জোনাকরাতের বন-সাজসবুজ তারা ৪বুড়ির প্রেমআকাশঘরে চাঁদপ্রহরী মেঘ ৫শস্যখেতবিশাল পাকশালারাঁধে কৃষক স্বপন নাগ ১.পুরনো খামেহরফগুলি নতশেষ প্রণামে। ২.অচেনা গ্রামলিখতে চেয়েছিলকার যে নাম! অমিতাভ সরকার ১আকাশ মেঘরোষের পাশাপাশিদুঃখের মন। ২দূরের বাতাসমেঘের ছায়াছবিদুঃখী মন। অপর্ণা বসু ১ধানের শীষেএকটি শিশির ফোঁটাহীরের কুচি। ২দুপুর বেলাএকলা…
লেখকঃ জঁ-মারি গুস্তাভ ল্য ক্লেজিও, মূল ফরাসি থেকে ভাষান্তরঃ নূরুল আলম ওর নাম ছিল দানিয়েল। কিন্তু নিজেকে সে সিন্দাবাদ নামে পরিচয় দিতে খুব পছন্দ করত। কারণ সে দুঃসাহসী নাবিক সিন্দাবাদের সমুদ্র অভিযানের গল্পগুলো পড়েছিল। তার সাথে সবসময় চামড়ায় বাধানো লাল রংয়ের বেশ ভারী একটা সিন্দাবাদের গল্পের বই থাকত,যে বইটাতে সে…
ত্রিকালসিদ্ধি সময়ের পোড়াপোড়া আবছায়া স্মৃতিতে— ত্রিকালসিদ্ধি হাটে জীবন্ত কাছিম পাশাপাশি সাজানো,টুকরো টুকরো বিক্রি হবে আটআনা দরে।একজন বৃদ্ধ কাছিম মাথা পেতে বসে আছে ধারালো ছুরির পাশে—চোখ দুটি আকাশ অথবা ঈশ্বরের পানে নিবিষ্ট। সামান্য দূরেই অন্যএক জটলা—পুঁথিপাঠক হাতেম জ্ঞানী অবসরে ঘুঘু শিকারী,ইউসুফ-জোলেখার কেচ্ছা পড়ছে প্রেমকুহকে ফাঁদেপড়া মানুষের কাছে। ত্রিকালসিদ্ধির হিরো নগেন—একডুবে ধরে…
১.খাটের মাথায় লতাপাতা-ফুল খোদাই করা কাঠের নিচেমাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েন যারা,মনে মনে তারা ভীষণ বনচারী। ২.চিতাকাঠে শুয়ে প্রণম্য অগ্নিঅরণ্যে দেহ ভস্ম হবার দৃশ্যনা দেখেই লোকটা অদৃশ্য হয়ে গেল। ৩.পোড়াদহ স্টেশনে বিক্রি হয়ে গেছে কমলাপৃথিবীজন-অরণ্যে খোসা ছাড়া কমলার ভুরভুরে ঘ্রাণ। ৪.ব্ল্যাক ফরেস্টে পা রাখতেই সাপে কাটে স্বপ্নেজাগরণে জ্বালাপোড়া, যন্ত্রণা সাতদিনফুলে যায়…
(১)রমণ নেই সই কি অদ্ভুত জগৎ গড়ে গেছ সন্তরা,প্রসঙ্গ যখন আমার, সেখানেও তুমি দখলবিষয়ক মন্ত্র পাঠ করো— গানে গানে মেলা বসে ক্যাম্পাসে, চিরল চিরল পাতায়গুনগুন রমণ খুব—তবু চিলের ওড়াউড়ি, ছাড়া ছাড়া ভাববাহাস ফোটে বন্ধুমহলে, পরিচিত পাখিদের কোলাহলেএকটা ফিঙে ছাড়া, আরেকটা ফিঙে একা-একি ওড়ে—এ-দায়ে বন্দুরা কেউ আমায় আর জাতে তোলে না।এ…
শরৎ পাখি শরৎ পাখির মতো গান গায়কাশফুলের মতো সুন্দর সে। হঠাৎ একদিন হৃদয়ে আঁচড় কেটেউড়ে গেল শরৎ মেঘের গায়ে। শত্রু সূত্র খেলা হঠাৎ করে জগৎের সমস্ত স্বামী স্ত্রীর ভেতর—ঢুকে গেলো একটি কোল বালিশ।অতঃপর শুরু হলো ঝগড়া;যা পৃথিবী ধ্বংসের আগ পর্যন্ত চলবে… কবি নিজেকে পাগল পরিচয় দিলে লোকে হাসে,নিজেকে কবি পরিচয়…