রোদের কড়া তাপ চারিদিকে সূর্য দেবের শক্তির আস্ফালন দেখাচ্ছে। শহরের রাস্তায় রাস্তায় যেন আগুনের ফুলকি উড়ছে। রোদের কড়া তেজ কালো পিচের রাস্তায় ফিজিক্সের প্রতিফলন সূত্র মেনে নিজের মতো প্রতিফলিত হচ্ছে। প্রতিফলিত রোদের তাপ পথচারীদের ফেলছে বিষম অস্বস্তিতে, রোদের তাপে পোড়া লাল আভা যেন তাদের মুখে ছড়িয়ে আছে। এরকমই এক পথচারী আজ আমাদের গল্পের মূল চরিত্র। গরমে রাস্তায় হাঁটছে সে। জীবনের সাঁইত্রিশটা বছর পেরিয়ে এসেছে। কয় বছর থেকে রোজা রেখেছিল সে? হুম, সাত বছর বয়স থেকে রোজা রাখা শিখেছিল। প্রায় সবগুলো রোজাই রাখতো। আজকে তার ছেলে প্রথম রোজা রেখেছে। তাই এই বাইরে আসা, কাজেই বের হওয়া। কী জন্য যে রাজশাহীতে এই বালের চাকরি নিয়েছে এইটাই ভাবছে সুমন।
ভাবতে ভাবতে হাঁটছে সে। আজকে অনেককিছুই কিনতে হবে তাকে। বাসায় তার স্ত্রী অপেক্ষা করছে, আজকে তার ছোট্ট ছেলে প্রথম রোজা রেখেছে। প্রায় ১০ বছর হয়েছে তার আর মিথিলার বিবাহিত জীবনের। ছোট ছেলে রাজু এবার আঁটে পা দিবে। যদিও এখনো মাসখানেক দেরি আছে। মে মাসে রাজুর জন্মদিন কিন্তু ঠিক কয় তারিখে? মনে নাই সুমনের। মিথিলাকে জিজ্ঞেস করতে হবে। এসব ভাবতে ভাবতেই বাজারের দিকে হাঁটছে সে। হালিম নিতে হবে, জিলাপিও নাই বলল মিথিলা। রাজু আবার কাবাব আনতে বলেছে, সাথে একটা জুস।
আচ্ছা কয়টা বাজে? সাড়ে চারটা! তাড়াতাড়ি আসরের নামাজটা পড়তে হবে। এই ভেবে রাণীবাজার জামে মসজিদে ঢুকলো সোজা। মসজিদের মধ্যে ঠান্ডা, আরাম আরাম লাগছে, নামাজের পর একটু বসে থাকতে ইচ্ছে করলো। কিন্তু ছেলের আজকে প্রথম জন্মদিন নিয়ম করে সব কিনে নিয়ে যেতে হবে। তীব্র তাপে বের হয়ে আবার ঘামতে শুরু করে সে। শরীরের সব শক্তি নিংড়ে নেয় অদৃশ্য কিছু। প্রায় পাঁচটা বাজে কিন্তু অরূণ একটুও করুণা করে নি।
আল্লা আরেকটু শক্তি দাও। আমার ছেলের প্রথম রোজা আজকে। এই কথা ভাবতে ভাবতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সুমন। প্রথমে বসার চেষ্টা করলেও বসে ওঠার সময়টুকু খোদা দিলেন না। সেন্সলেস হয়ে রাস্তায় চড়া রোদে পড়ে যেতেই ধুলা উড়ে শরীরটা ধুলা ধুলা হয়ে গেল। সুমনর সেদিকে জ্ঞান নেই। কোনোদিকেই তখন তার জ্ঞান নেই। জ্ঞান ফিরলো একটু জুসের ছিটা মুখে পড়তে। চোখ তখনো বন্ধ কেউ যেন তার মুখে একটা কিছু চেপে ধরেছে। মিষ্টি মিষ্টি লাগছে। মুখে চেপে ধরা কিছু একটা, বেশ ঠান্ডা। উমমম। সারাদিনের ক্লান্তিতে আর উদাসে সে বেশ অনেকটাই টেনে টেনে খেয়ে ফেলে। শান্তিতে চোখ বুজে থাকতে ইচ্ছে করে, কিন্তু জ্ঞান যখন জানান দেয় সে মাটিতেই আছে এখনো চোখদুটো ধড়ফড় করে খুলে যায়। চোখ খুলতেই দেখে সামনে এক নারী, সুন্দর একজন নারী।
‘এই আপনি ঠিক আছেন তো ? আপনার লাগে নি তো কোথাও? আপনার কি ডায়াবেটিস আছে?’
তাইতো। আমার তো ডায়াবেটিস। আমার ডায়াবেটিস কী নীল হয়ে গেছে? হয়তো, হয়তো সুগার সত্যিই কমে গেছে।
কিন্তু, আমার রোজা যে ভেঙে গেল!
সুমনের ইচ্ছে করে সামনের এই নারীটিকে একটা ধমক দিতে। ধমকের উদ্দেশ্যে সামনে তাকায় সে। চোখে গাঢ় কাজল। ঠোঁটে একটা হালকা রঙের লিপস্টিক। কপালে একটা মাঝারি সাইজের লাল টিপ। মুখটা অনেক মিষ্টি। এসব মায়া ছেড়ে সুমন বলতে লাগলো,
আমার তো রোজা ভেঙে গেল। একটু ধরবেন। আমি একটু দাঁড়ানোর চেষ্টা করি।
অবশ্যই অবশ্যই! উঠুন আপনি।
আশেপাশে থাকা আরো দুএকজন তখন এগিয়ে এলো ওঠানোর জন্য। তবে আগিয়ে আসা কারো সাহায্য লাগেনি। একা নারীর সাহায্যেই সুমন উঠতে পারলেন।
আপনি ঠিক আছেন তো? আমি খুবই দুঃখিত আমার কাছে জল ছিল না। তাই এই জুসটাই আপনাকে খাইয়ে দিয়েছি। ডালিমের জুস এটা। আপনার গলা আর গালেও একটু লেগেছে। প্লিজ ধুয়ে নিবেন নয়তো কেমন আঠাআঠা করবে, অস্বস্তি লাগবে আপনার।
মেয়েটার কণ্ঠ কী মধুর। কথা বলার ভঙ্গি কত সুন্দর। কী নির্মল কণ্ঠস্বর। মেয়েটার কথায় ঠিক মনোযোগ দিতে পারে না সুমন। মুখে সেই ডালিমের জুসের স্বাদ লেগে আছে। আর সহজ সামাজিক জ্ঞানটাও যেন সুমনের হারিয়ে গেছে। কিছু বলছে না, কিছু করছে না।
ভাইয়া এই নেন। এই জুসটা রাখেন। আমাকে পড়াতে যেতে হবে আবার। এমনিই লেট হয়ে গেছি। আপনি বাইরে থাকিয়েন না যেন আর। সোজা বাসায় চলে যান।
মেয়েটা তারপর হাঁটতে শুরু করলো। এতক্ষণে যেন সুমনের বাকশক্তি ফিরে আসে।
শুনেন, এইযে শোনেন। আপনার নামটা কী? আজকের জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
মনেহয় মেয়েটা শুনতে পায়নি। তা না পাক। হাতের মধ্যে থাকা ডালিমের জুসটাতে আবার চুমুক দেয় সুমন। খুবই সুস্বাদু লাগে তার কাছে। মিষ্টি কিন্তু খুব মিষ্টি না। একদম ডালিমের মতোও না। ডালিমের টেস্টটা একদম শেষে জিভে লেগে থাকে। তার আগে কিছুটা সিরাপের মতো টেস্ট কিন্তু খুব রিফ্রেশিং, খুব সুন্দর একটা স্বাদ।
এখনো অর্ধেক মতো আছে জুস। আর খাবে না সে। তাড়াতাড়ি একটা রিকশা নিতে যায়। কিন্তু তখনি আসল কাজের কথা আবার মনে পড়ে। তার বাজারে আসার উদ্দেশ্য কী সেটাই ভুলে গেছিল সে। ছেলের প্রথম রোজা। জাঁকজমকপূর্ণ ইফতারি হবে। হাঁটতে চেষ্টা করে কিন্তু শরীর ভারী ভারী লাগে। শেষ পর্যন্ত কুইন্স থেকেই হালিম, আলুর চপ, জিলাপি আর বোরহানি নেয় সে। তারপর ওখান থেকেই রিকশা। রিকশায় উঠেও আজকের ঘটনার কথা মনে পড়তে থাকে। ঘটনাটা লজ্জাজনক। মিথিলাকে যখন বলবে যে এই এই ঘটেছে আজকে। মিথিলা কী ভাববে?
মেয়েটার নামটাই তো জানা হলো না। মেয়েটা কী সুন্দর গাঢ় করে কাজল দেয়। সাজ সুন্দর মেয়েটার। মিষ্টি রঙের কামিজের সঙ্গে কলাপাতার মতো সবুজ ওড়না যে এতো সুন্দর লাগতে পারে। মেয়েটা নিশ্চয়ই হিন্দু। নয়তো এই রোজার মাসে ডালিমের জুস তো কারো কাছে সেভাবে থাকার কথা না। এই ভাবতে ভাবতে আবার ডালিমের জুসে মুখ দেয় সুমন।
বাড়ি গিয়ে কী বলবো? যদি এই মেয়ের কথা বলি, মিথিলা ক্ষেপাবে। আবার যদি জানতে পারে মেয়ে হিন্দু তাহলে তো আরো ক্ষেপবে। ওর মধ্যে এই গোঁড়ামি আছে। ওর ভাষাতেই ও মালাউন দেখতে পারে না। কেন সেটা অবশ্য সুমন জানে, তাই সবদিক বিবেচনা করেই সুমন বাসায় গিয়ে সব ঘটনা বললো শুধু তার সাহায্যকারীর লিঙ্গটা বদলে দিল। তারপর হাতমুখ ধুয়ে ওযু করে ইফতারিতে নিজের ছেলেকে পাশে রেখে বসে পড়লো। প্রথমেই মিথিলাকে না করে দিয়েছিল যেন রাজুকে রোজা ভাঙার ব্যাপারটা না বলে। মিথিলা মুচকি হেসে সম্মতি দিয়েছিল।
এখন ইফতারি সামনে রেখে সবাই দোয়া করছে। অতঃপর আযান দিলে খাওয়া শুরু। বাসায় বিরিয়ানি রান্না করেছিল মিথিলা। বিরিয়ানি রান্না খুবই মজা হয়েছে। বরাবরই সুমন তার স্ত্রীর রান্নার প্রশংসা করে কিন্তু আজকে এতো মজার খাবার খেয়েও সে প্রশংসা করতে ভুলে যায়। মিথিলা তখন নিজে থেকেই জিজ্ঞেস করে।
বিরিয়ানি কেমন হয়েছে বললে না তো?
আরেহ ভালো হয়েছে। বরাবরই তো বলি সুন্দর।
কই আজকে তো তুমি নিজে থেকে বলো নি। তোমার কি শরীর খারাপ? যাও যেয়ে একটু ঘুমিয়ে নাও।
সত্যিই মনে হয় শরীরটা খারাপ। সুগার মনে হয় কমে গেছে। আরেকটু শরবত দিও তো আমাকে বেশি করে চিনি দিয়ে।
শরবত খায়, কিন্তু শরবত খেতে খেতেও সুমনের সেই ডালিমের জুসের কথা মনে পড়ে। ফ্রিজেই রাখা আছে না? নামাজটা পড়ে জুসটা আবার খাবে। মখমলের জায়নামাজে নামাজ পড়া শেষ হলে সে ফ্রিজ খোলে ডালিমের জুসটা খাবে। ফ্রিজে রুহ আফজা, তার ইনসুলিন, ফলমূল সব থাকলেও সেই ডালিমের জুসটা নেই। বিরক্ত বোধ করে সে। রাগ হয়। রাগ থেকে রাজুকে যেয়ে ধরে।
এই ডালিমের জুসটা কই?
আব্বু তোমাকে তো আমি ম্যাংগো জুস আনতে বলছিলাম। কিন্তু তুমি এইটা কী নিয়ে আসছো। একটুও মজা না। ঐ যে টেবিলে আছে।
টেবিলে এসে দেখে জুসটা এখনো কিছুটা আছে। কে সেই অচেনা মেয়ে? তার নাম ঠিকানা কিছুই জানে না। যে চিহ্নটা আছে সেটা এই ডালিমের জুস। এবার গোটাটা খেয়ে শেষ করে সে। তৃপ্তি, শান্তি একইসাথে একটা অতৃপ্তি জেগে ওঠে।
ঘুমাতে চলে যায়। একটু ঘুমালে ভালো লাগবে শান্তি লাগবে। আচ্ছা ঐ মেয়েটা কী করছে এখন? ও কি সবাইকেই এরকম সাহায্য করে? সবসময় এরকম সুন্দর সেজে থাকে?
মেয়েটার চুল একদম ঘন কালো। মেয়েটা আবার একটা মিষ্টি রঙের কামিজ পরে এসেছে। পরোপকারী মেয়েটা সুমনের পাশে বিছানায় এসে বসে। এবার কামিজের উপরে কোনো সবুজ ওড়না নেই। কামিজের মধ্যে দিয়ে সুমন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে অচেনা নাম না জানা মেয়েটির বুকের অবয়ব। মনে হচ্ছে দুটো আধা পাকা ডালিম। এখনো পাকেনি তাই রঙ লাল হয়নি, কামিজের মতো মিষ্টি রঙের থেকে গেছে।
সুমনের আবার ইচ্ছে হয় ডালিমের জুস খেতে। নেশা ধরে গেলো কী? মেয়েটার দিকে এগিয়ে যায়। কপালে এখনো টিপ আছে। কিন্তু টিপটা এবার সুমনের পছন্দ হয় না। মেয়েটাকে উলঙ্গ দেখতে ইচ্ছে করে। টিপটাও উঠিয়ে ফেলে।
মানুষের মনে কিছু কিছু হঠাৎ ঘটনার ছাপ সবসময় থেকে যায়। ঘটনাটা লজ্জাজনক হতে পারে, ভয়াবহ হতে পারে, প্রেমের হতে পারে, কামের হতে পারে। ঘটনা অতীত হয়েই থেকে যায়, রেশটা মনের মধ্যে গেঁথে যায়, বারবার ভিন্ন ভিন্ন ভাবে মস্তিষ্কে উড়ে বেড়ায়। সুমনের ক্ষেত্রেও কি এমনটা হচ্ছে?
ঘুম ভাঙলে সুমনের কাছে সবটা পরিষ্কার হয়। কিন্তু তেমন নিস্তার নেই। ২০ মিনিটও ঘুম হয়নি তার। আজকে আবার বাজার যেতে হবে। মিথিলার শপিং, রাজুর জন্য শপিং আবার নিজের জন্যও কিছু নিতে হবে। সামনে ঈদ। কেনাকাটা করতেই হবে। উঠে ফ্রেশ হয়ে সে রেডি হয়ে যায়। মিথিলা আর রাজু আগে থেকেই রেডি।
বাজারে বাজারে জামাকাপড় দেখে বেড়ায়। পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়াতে ভালোই লাগে সুমনের কিন্তু আজকে মন বসছে না। তবুও মনটা কেমন চঞ্চল হয় যখন সে একই কামিজ দেখতে পায় একটা শোরুমে। টু পিসের সেট। সেই একই ওড়না, একই কামিজ। দাম ৪৫৯৯ টাকা।
মিথিলাও কি আমার কম সুন্দরী? অনেক দিন পর হঠাৎ করে সুমন যেন মিথিলাকে আবার খেয়াল করল। মিথিলা পরিবার সামলাতে গিয়ে জৌলুস হারিয়ে ফেলেছে কিছু। তবুও ফিগার তো এখনো দারুণ। মিথিলার জন্য বাজেট ৪০০০ বরাদ্দ ছিল। এই টু পিসের সেটটা নিলে কী বেশি খরচা হয়ে যাবে?
কিছু হবে না।
মিথিলা শোনো এই কামিজটা দেখো তো। মিথিলার বেশ পছন্দ হয়। বিয়ের পর থেকে প্রায় নিজের পছন্দেই সে জামাকাপড় কিনছে। আজকে সুমনের পছন্দ করা জামাটাও দারুণ কিন্তু দাম বেশি। প্রথমে মিথিলা রাজি হয় না। পরে সুমনের জোরাজুরিতে কিনেই ফেলে। এরপর কিছু কসমেটিকস কিনতে গেলে একটা গাঢ় কাজল কিনে দেয় মিথিলাকে , সঙ্গে লাল টিপ। সুমন নিজেও বুঝতে পারে আজ মেলাদিন পর সে যেন আবার ভালোবাসছে নাকি এটা শুধুই সেই অচেনা মেয়ের খোঁজে? মিথিলার মধ্যে তাকে খুঁজছে কি? জানা নেই সুমনের।
ছোট ছেলে যখন খেলনা কেনার বায়না করে, একটা রিমোট কন্ট্রোল হেলিকপ্টার কিনে দিতেও সুমনের বাধে না। পরে সবাই মিলে রেস্টুরেন্টেই ডিনার করে সেই রাতে। আসার সময় ছেলের বায়নায় কিছু চকলেট আর একটা বড় ডালিমের জুস কেনে। ডালিমের জুসটা তার নিজের জন্য।
বাড়ি ফিরলে বেশ রোমান্টিক ভাবেই সে মিথিলাকে বলে নতুন জামাকাপড় পরে আসতে। ফিটিং চেক করতে বলে, আসল উদ্দেশ্য তো মিথিলাকে নতুন রূপে দেখা। অনেকদিন সে ভালোমতো মিথিলাকে দেখেনি। আবার মনের এক কোণে সেই অচেনা পরোপকারীণীকে দেখার আগ্রহ।
মিথিলা ইচ্ছে করেই নতুন কেনা কাজলটা দেয় গাঢ় করে। কপালে টিপও পরে সে। অতঃপর সুমনের সামনে যায়। মিথিলার নিজের অতীতের কথাই মনে পড়ে। এখন থেকে এক যুগ আগে যখন সুমন প্রথম প্রেমে পড়ে তার, সে এরকমই ছিল। গাঢ় করে কাজল দিতো, লিপিস্টিক লাগাতো, সবসময় টিপ পরতো কপালে।
সেই পুরনো বেশে আজকে আবার সুমনের সামনে যায় সে। রাজু খেলনা নিয়ে একটু খেলেই ঘুমিয়ে পড়েছে অন্য রুমে।
মিথিলাকে দেখে সুমনের সেই অচেনা মেয়েই মনে হয়। মিথিলাকে কাছে আসতে বলে। অনেকদিন পর মিথিলাকে নতুন নতুন লাগে। একই মিষ্টি রঙের কামিজ, সবুজ কলাপাতার মতো ওড়না। চোখে গাঢ় কাজল। সুমন মিথিলাকে কাছে টেনে নেয়। অন্যকিছু এখন মিথিলাকে আবৃত করে রাখবে সুমনের বিষয়টা এখন মোটেও ভালো লাগে না। ৪৫৯৯ টাকা দিয়ে কেনা নতুন জামা মেঝেতে পড়ে থাকে। চোখের গাঢ় কাজল লেপ্টে যায়। কপালের টিপ খসে পড়ে। বুকের দিকে এগোতে থাকে সুমন। ডালিমের জুস খেতে ইচ্ছে করে আবার। এ যেন নেশা ধরে গেছে। অচেনা অজানা মেয়েটিও সামনে চলে আসে। মিথিলা আর অচেনার মধ্যে কোনো পার্থক্য করতে পারে না সুমন। দুজনেই নগ্ন, এলোমেলো। সুমন এবার প্রথমেই জিজ্ঞেস করে, ও মেয়ে তোমার নাম কী?
মিথিলা।
আর কিছু শোনার অপেক্ষা করে না। মিথিলার স্তনে নিজেকে ডুবিয়ে ফেলে সে। ঠিক দুপুরে চোষা জুসের মতো চুষতে চুষতে হারিয়ে যায় ডালিমের জুসের তল্লাশে।
প্রচ্ছদ । রাজিব রায়