রফিক জিবরানের কবিতা

0
Showing 1 of 1

পুষে রাখি বেদনার বনলতা সেন—
সব হাসি ঝরে পড়ে জীবনের ফাঁসে;
একাত্তর যতদূর ফুটেছে আকাশে,
মানুষের অনিঃশেষ আশার চরণ—
পল্লীর আইল ধরে দূরে দেয় পাড়ি—
মায়া ছেড়ে পরদেশে ছবি বাঁধা হাটে,
জোছনায় ঝলসিত হৃদয়ের— শাড়ি,
ঝুলে আছে লাইনের এপারে-ওপারে।

মুক্তির মশাল হাতে যারা একদিন,
নির্বাক মিনার জাগে তাঁদের স্মরণে
মুছে যায় রক্তদাগ যত নামহীন,
অনুভবে ঝরে যায় দিনের নিশ্বাসে।
নদীর শরীরে ভাসে বনলতা সেন,
ফুরায় না মানুষের পথ অন্তহীন—

দূরসময়ের গন্ধে সাধকের এষা—
জোনাকিআশার আলো রোদ বৃষ্টি ঝড়ে
মাটির প্রেমিক— হাতে, চোখে, বুকে— তৃষা—
বীজের উদ্ভাস বোনে মাঠের আষাঢ়ে।

ব্যথার নিদান চায় চারণ সাধক,
বিরহচরণ ঝরে সোনার ফসলে,
অদম্য উচ্ছাসে হয় নিঃশঙ্ক পাবক—
সন্তান থাকবে মুক্ত— সৌন্দর্যঅমলে।

স্বাধীন চোখের তারা সাধনায় বাঁচে—
দূরের পথিক দেখে নিরাশায় আশা,
প্রতিটি বীজের সাথে তৃষ্ণার পিয়াসা
বয়ে চলে বেদনার নিরঞ্জন আঁচে।

নিশিঘোর পেঁচারাও পুষে রাখে সাধ,
স্বাধীনতা অন্তহীন— সাধনা, আস্বাদ।

পুবের রাঙানো সোনাঝরা পথেমাঠে—
বিষাদবিচ্ছেদ মাঝে আনন্দনৈকট্যে
পদ্মার জলের স্রোতে মিশে আছে রবি—
প্রার্থনায় চৈতন্যের অদেখা মাধবী।
হিংসার বাঁধন ছিঁড়ে বলাকারা ওড়ে—
ঘৃণার আঙিনা ছেড়ে কালান্তর নীড়ে
সীমানা পেরিয়ে যায় ভালবাসাগীতে,
এ পৃথিবী সর্বপ্রাণে— মরমে, প্রীতিতে।

যে শব্দ আমাতে পায় মনের বিধান
যে কল্প দেখি তার আকাশবিতান
যে দৃশ্যে মায়ের মুখ স্মৃতিতে ভাসায়
যে বাঁশি বাউল সুরে আকুল কাঁদায়।
অধীনপশ্চিম যদি ভুলে যায়, কবি!
পুবের আসনে র’বে চিরস্থায়ী ছবি।

পাঠপ্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য
Showing 1 of 1
Share.

Comments are closed.