বিনাশের বিধিমালা
এক.
ছায়ার মতো মায়ার মতো করে থাকি তবে
জন্মের স্মৃতি নিয়ে গতজন্মের পরিচয়ে;
তোমাদের নগর, নগরের মিনার থেকে
ছড়ানো সম্মোহন-ধ্বনির নিত্য অনুবাদ
অর্থপূর্ণ করতে যদিবা ব্যর্থ হয়ে যাও
আমার দিকে করো নিয়ত পাথর নিক্ষেপ!
আমাকে এমনভাবে ভুলে যাও যাকে শুধু
অপবাদ আর অপলাপে মনে করা যায়।
যাকে চূড়ান্তভাবে পায়ে ফেলে পিষে-দলে
মাড়াইকালের খড়ের মতো করে রাখার
সুতীব্র ইচ্ছা তোমাদের হয়। যাকে ফাঁপা
পলিথিন ব্যাগ ভেবে নিয়ে হাওয়ার প্যাঁচে
উড়িয়ে-ঘুরিয়ে ময়লার ভাগাড়ে ফেলার
কৌশল শিখেছো কতকাল আগের নিয়মে!
দুই.
আকারে সাকারে অথবা আদিম অজুহাতে
মেদপূর্ণ সমাজ—শরীর থেকে ছেটে ফেলো—
আমাকে বাতিল করো যেনবা পুঁজের উদ্বৃত্ব
জমেছে মনের আরশে; পরবাসী বোধ
ফিরে এলে করো অনিবার্য টার্গেট প্র্যাক্টিস
ভ্রু-যুগলের কেন্দ্র বরাবর আমাকে রেখে!
আমাকে এমনভাবে লক্ষ্য হিসেবে রাখো
চাহিবামাত্র যাকে ধরতে ও ছাড়তে পারো
মারতে পারো অথবা তুলতে পারো বাজারে
বেচতে ও কিনতে পারো যেভাবে প্রয়োজন
যার মুণ্ডুর দাম তোমাদের হঠাৎ খায়েশ
মুহূর্তেই আছে আবার এক লহমায় নাই!
অতীতের ক্ষয়িষ্ণু স্মৃতির মতো যেন আমি
দীর্ঘশ্বাসের মতো ক্রমেই হয়েছি বিলীন!
তিন.
ধর্মাশ্রয়ী হয়েছে নদী এমন কোন জনপদে
আমাকে আড়াল করো, পর্দা টেনে দাও।
পিঠমোড়া করে বেঁধে ফেলে দিতে পারো
ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে, নদীতে-সাগরে;
জিহ্বায় লুকানো লোভের আগুনচাপা দিতে
আমাকে ছুঁড়ে ফেলতে পারো ক্রোধের জঠরে!
আমাকে এমনভাবে আড়াল করো যাতে
অজ্ঞাতপরিচয় বলে চালিয়ে দেয়া যায়।
যাকে স্বজাত-স্বজনহীন ভেবে দিতে পারো
বে-ওয়ারিশ তকমা, মর্গে শীতলড্রয়ার;
যাকে হত্যার কার্যকরণ প্রয়োজনহীন
দায়হীন মাংসের দলা রেললাইনের পাশে
যেমন পড়ে আছে ভুল জন্মের মতো করে
তেমন আমাকে ফেলে রাখো আড়াল-আঁধারে।
প্রচ্ছদ । সুবন্ত যায়েদ