একটি ছোট ঘর
একটি ছোট ঘর
যার দেয়ালে পেরেক মারা
ছবি টাঙানোর জন্য
কিন্তু সেখানে
কোনও ছবি দেখা যায় না
যেখানেই সহজে হাত যায়
সেখানেই কাপড় ঝুলছে পেরেকে
আরও কয়েকবার
গায়ে দেওয়ার জন্য
আমার অবশ হাত
আমার অবশ হাত
গাছটির শুকনো ডালপালার সাথে
সমান্তরাল হয়ে আছে
আর চোখ স্থির একটি কুঁড়িতে
যেখানে নতুন পাতা গজাতে পারে
যখন বৃষ্টি হয়
আমি চাই
সবার আগে
আমার চোখগুলো ভিজুক
তারপর
আমার হাতের সবুজে
একটি পাখি তার ঘর তৈরি করুক
ডিম পাড়ুকৃ
একগুচ্ছ চাবি ও আকাশ
একগুচ্ছ চাবি ছুঁড়ে মারলাম
আকাশে
আর আকাশ খুলে গেল
সম্ভবত এটি আমার সিন্দুকের
চাবি
উঁচু স্বচ্ছ আকাশে
আমি পাঁচটি যুদ্ধবিমান দেখতে পেলাম
যা একটু পরেই অদৃশ্য হয়ে যায়
আর সিন্দুকের ভেতরে
একটা অথবা দুইটা তেলাপোকা
যারা বাইরে আসতে রাজি হয় না কোনো ক্রমেই
এমনকি সিন্দুকটি উল্টে দিলেও
রাস্তার ধারে একটি বাজার
রাস্তার ধারে একটি বাজার
একটা ব্যস্ত খরিদদার
একটা ময়লাঅলা
সামান্য ছেঁড়া ব্যাগ
প্রতিটি হাতে
একটি খালি একটা পূর্ণ
ব্যাগের ভেতরে আলু
শাক-সবজি একটা ছোট্ট
গরম মশলার প্যাকেট
এবং মরিচ
লাল অথবা কাঁচা
আমি যদি দশ টাকার
একটি নোট হতাম
তাহলে তার ব্যাগে
আশ্রয় পেতাম
কিন্তু আমি আটকে আছি
আমার নিজের ব্যাগেই
মানুষ
মানুষের আখ্যানে আমারও আখ্যান
মানুষের আত্ম-আখ্যানে আমারও আত্ম-আখ্যান
মানুষের মধ্যে
মানুষের থেকে আমি আলাদা নই
কখনও কিছু মানুষ
কখনও দু’চারজন মানুষ
অথবা সব মানুষের মতো কোনও একটা মানুষ
আমি বেঁচে আছি
এ কারণে আমার আত্ম-আখ্যানও বেঁচে আছে
যেখানে অন্তিম আখ্যান এটাই হবে যে—
মানুষ…
আমি মানুষের মধ্যে থাকি কিংবা না থাকি
মানুষের মধ্যে মানুষ আজীবন থাকবে
প্রতিশ্রুতি
যদি রোজ কারফিউয়ের আওতায় দিন কাটানো হয়
তাহলে কেউ নিজে নিজেকে হত্যা করবে না।
কেউ না কেউ হত্যা করবে অন্য কাউকে।
আমি স্বাভাবিক মৃত্যু পর্যন্ত বেঁচে থাকতে চাই
যতক্ষণ না আমাকে হত্যা করে অন্য কেউ।
আমি প্রতিদিনের মতো
আমার শহরে ঘুরে বেড়াতে চাই।
কেননা, ঘুরে বেড়ানো আমার অভ্যাস।
এমন অভ্যাস যে, কারফিউয়ের দিনেও
আমি দরজায় কড়া নাড়তে চাইবো
আর হালচাল জানতে চাইবো অন্যদের।
হতে পারে আমি একজন হন্তারকের
দরজায় কড়া নাড়ছি।
যদি সে হিন্দু হয়, তাহলে আমি
নিজেকে হিন্দু বলে নিজের জীবন বাঁচাতে
চাইবো না। নিজেকে মুসলমান দাবি করব।
আর যদি সে হয় মুসলমান, তাহলে নিজেকে
দাবি করবো হিন্দু বলে।
আমি বলতে চাইবো না যে,
‘আমি কেবল নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য মুসলমান।’
এ সত্ত্বেও যদি আমার জীবন রক্ষা পায়
তাহলে আশা করি আমি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকা পর্যন্ত বেঁচে থাকব।
বিনোদ কুমার শুক্লার জন্ম ১৯৩৭ সালের পয়লা জানুয়ারি ভারতের ছত্তিশগড়ের রাজনন্দগাঁওয়ে। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক। শুক্লার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘লাগভাগ জয় হিন্দ’ ১৯৭১ সালে প্রকাশিত হয় । ১৯৭৯ সালে তাঁর লেখা উপন্যাস ‘নৌকর কি কামিজ’চলচ্চিত্রায়িত হয় । জাতীয় সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০২৩ সালে পেয়েছেন পেন পুরস্কার।
প্রচ্ছদ । রাজিব রায়