সাপুড়ে
নাচছে সাপ
নাচছে পৃথিবী
বীণের পাঁজরে বাসা বেঁধেছে বিষদাঁত
নাচছে পৃথিবীর নিয়ম, উল্টে গেছে সব।
ওই দিকে সাপুড়ে পাড়া নয়
পাড়া এখন পৃথিবীময়
আজব এক জ্যোৎস্নায় ভাসি কেবল
আলোহীন ঘরময়, থেকে থেকে শঙ্কা কথা কয়।
সমর্পণ
অবশেষে চলে গেল
গ্রহণ শেষের সূর্যের মতো
বনের পাখিরা জানিয়ে গেল
আষাঢ় শেষের বার্তা—
হৃদসংক্রান্তির দক্ষিণ দুয়ার খুলে।
ঘরের কোনে টিকটিকি সংসার পেতেছে
ঘনিষ্ঠ হয়ে আসা উঁইপোকাদের দল—
বুক পেতে থাকে মৃত্যুর অপেক্ষায়;
অবশেষে চলে যায়, বুনে রায় দেয়ালচিত্র
ফাঁকা ঘরে আলো খেলে যায়
মেলে যায় প্রজাপতির ডানা।
অবগাহন
অতএব, প্রবল তৃষ্ণা মেখে পাখিদের ওড়াউড়ি
মাঠ পেরিয়ে নিরুদ্দেশ যাত্রা—
একান্ত নিজস্বতার অসাড়তায়
এ যাত্রা ভীষণ একগুঁয়ে।
শূন্যঘরে ঈশ্বরও আসে না সচরাচর
কৃষকের ঘাড়ে ঝোলা শস্য শহরে
বাতি জ্বলে না, রঙ লাগে না।
নগরে বশ্যতার আকাল
ধুলোমাটিতে একাকার প্রেমদৃশ্য
রক্তাক্ত নতস্বীকার, অবুঝ নিয়মের আড়ালে।
মানুষ দৃষ্টি খুনি
দিকে দিকে তাই তীব্র দাবদাহ—
সাধের সাধ্যি থাকে না কখনো
কখনো হাটে হাঁড়ি ভেঙে প্রকাশ চাওয়া ব্যাধগুলো
শিকার শূন্যতায় ভোগে—
তারপর, কৃষ্ণকুমারীর মতো আত্মহনন করে মাঠের পাখিটি
তুমুল তৃষ্ণার্ত মনে।
প্রচ্ছদ । সুবন্ত যায়েদ