তিনটি প্রেমের কবিতা । কাজী মোহিনী ইসলাম

0

তুমি কতটুকু বোঝ তাকে?
অজ্ঞান বা সজ্ঞানে
যে তোমার অন্তরের উপলব্ধিগত অভিজ্ঞতাটুকু
জানার অসীম আগ্রহে—
তুমুল হট্রোগোল অথবা মৃতদের নিথর
নিদ্রাক্লান্ত অচল দিনেও
বুক ভর্তি বুভুক্ষু আলোড়নে
হাঁটে পাশাপাশি।

সব স্থান কালের উর্ধ্বে এক
মায়াভেজা পাথুরে জীবন;
তোমার কানেই পৌঁছাতে চায় তার
একান্ত স্বরের সমস্ত সুর।

তুমি কতটুকু চিনেছ তাকে?

আহা! কী অদ্ভুত!
নেশাবাজ মাছ শিকারীর চেয়েও নির্মম স্বভাব তোমার—
প্রয়োজনীয় মানুষটাকে জীবন সমুদ্রের মাছ ভেবে
দ্বিধার বর্শীতে গেঁথে ছিপটাকে আলতো হাতে ভাসিয়ে রাখো
তোলো না তো ডাঙ্গায়, প্রিয় মাছ মরে যাবে
দাও না তো ছেড়ে, দুরে কোথাও চলে যাবে—
কী নিপুণ কৌশলে বর্শীর মাথায় গেঁথেদিলে
ভালোবাসা নামক আশ্চর্য বিষ
যেখানে না আছে জীবন, না আছে মরণ!

অহর্নিশ বুকজুড়ে দাপিয়ে ওঠা কষ্টগুলো
ডানাওয়ালা দীর্ঘশ্বাস হয়ে উড়ে যায়, যাক—
ধূসর বিরহে বিপন্ন প্রাণ মরছে মরুক—
দিনান্তে ঝরে যাওয়া ফুলের মতই
মাটিময় মিশে যাক প্রিয় মুহূর্তের স্মৃতি!

নিঃসঙ্গ রাতে—
নির্জন কষ্টের মত নিরাশার নিঃস্বপ্ন বালিশ
শুয়ে থাক পাশে—
শূন্য বুকের পাঁজর ভাঙছে ভাঙুক বিরহী হাওয়া
সপ্তর্ষির মত সজাগ দু’চোখে দেখি যার ছবি
নিরব আবেগে অবিরাম—
তার স্মৃতির বিষকামড়ে কাঁদছে কাঁদুক রক্তাক্ত হৃদয়—
তবু পিছু ডাকবো না ভুলে বিষাদমগ্ন অন্তহীন অভিমান।

অলেখা কবিতার শব্দের মত হাড়-মাংস-মজ্জা-রক্ত-অস্থিময়
মগজের ভিতর পুষে রাখা আজন্ম আরাধ্য যে পুরুষ;
আধেক-সত্যে আর আধেক মিথ্যার মিশেলে গড়া অচেনা সে—
জটিল রহস্যময় গোপন শত্রুর স্বভাবে বারংবার
ভাঙে সব প্রতিশ্রুতি, প্রমত্ত উল্লাসে—
তারচেয়ে ঢের ভালো চোরাবালি অরণ্যের অচেনা পথ
ভয়ংকর ঘুর্ণিঝড় কিংবা সুনামির ঢেউ—
তারচেয়ে ঢের-ভালো হিংস্র হায়েনা
বিষাক্ত সাপের ছোবল।

অতঃপর
আজন্ম স্বভাব বদলে মৃত প্রেমের কফিন আমিও আজ
বিশ্বাস আর ভালোবাসা থেকে যোজন যোজন দূরত্বে—
আমাকে দেখতে যার কাঁদে না মন মায়াময় অনুভবে
ভালোবেসে ডাকবো না কাছে তাকে
বিপুল সুখ কিংবা অসহ্য অসুখে আর
যে আমায় ছেড়ে দূরে যেতে চায়—
আমরণ ঘৃণাভরে ভুলে যাব
দৃষ্টির অগম্য হবো ঢের বেশি
চিরতরে আমিও তার…

ভেবেছিলাম ভালোবাসা এক আদিম বৃক্ষ
গভীর অরণ্য সুউচ্চ সবুজ পাহাড়
ভালোবাসা ঘাসফুল-ফড়িং-প্রজাপতি
ভালোবাসা বিশ্বাস শান্তি ও স্বাধীনতা
ভালোবাসলেই কথার ঝর্ণা হয়ে বেজে ওঠে অমৃত প্রেম
ভালোবাসলেই রক্তের ভেতর জেগে ওঠে ফাগুনের সবকটি রঙ
ভালোবাসলেই রুপোলি তারার মত শরীরময়
জ্বলে ওঠে কামনার সহস্র জোনাক—
ভালোবেসে চোখে চোখ রেখে হলুদ সূর্যমুখির মত
আশ্চর্য নিমগ্নতায় স্বপ্নের চেয়েও দ্রুতগতিতে
কেটে যায় মধুময় মুগ্ধজীবন

আজীবন ভালো বেসে বেসে তাই
যে মনে মমতা নেই, নেই শান্তির স্নিগ্ধতা
সে মনের কাছে পেতেছি মন মৈত্রী মমতায়
যে চোখে স্বাধীনতা নেই, নেই সাহস ভালোবাসার
সে চোখে রেখেছি চোখ, ভালোবেসে অপলক—
যে বাহুতে বিশ্বাস নেই, নেই প্রত্যয় প্রেরণার
সে হাতে রেখেছি হাত, প্রবল প্রেমের টানে।

যে অভিমানের দূরত্ব ছুঁয়েছে আকাশ
ভালোবেসে নিকটে ডাকি তারে অপূর্ব আলিঙ্গনে
যে মুখ বিবর্ণ হৃদয়ের কালো ব্যথায়
কৃষ্ণচূড়ার হাসি নিয়ে দাঁড়াই সামনে তার—
তবু ভালোবাসা বাঁধেনি ঘর
আকুল অকৃপণ ভালোবেসে!

পাঠপ্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য
Share.

Comments are closed.