শরীর অভিমুখে
দেহ কি ঘড়ি অথবা
ঘড়ি উপেক্ষা করা সময়—
যখন সময় অনুভূতি
কোথাও বছর হাজার কোথাও মিনিট?
কেন্দ্র কোথাও আছে
নিজের ভেতর অথবা বাহির?
নাভিতে পাক খেতে খেতে যখন ঢুকে গেছে নিয়তি
হাত দেখে, কপাল ছুঁয়ে
জানিয়ে যাচ্ছে আবহাওয়া সংবাদ
পাঁজরের ভেতর সৃষ্টি হচ্ছে নিম্নচাপ।
অথচ জানতাম শরীর অহল্যা পাথর
অন্য কারো ঘর্ষণে জ্বলে উঠবে বলে
ঘড়ির ফাঁদে আটকে রেখেছে সময়।
প্রচণ্ড বাতাসে দুলেছিলাম একা
জীবিতকালে আমার একলা সন্ধ্যাগুলো
নিঃসঙ্গ দোলনার মতো ছিল স্থির
অথবা প্রচণ্ড বাতাসে দুলেছিল একা
দেখোনি।
আমার দৃষ্টি রক্ত মাংসে গড়া অক্ষিকোটরে নেই
সীমানা পেরিয়ে দেখছি—
আজও তোমারা মৃত্যুকে দেখছ, মৃতকে না।
যেমন দেখোনি, জীবিতকে
যতটুকু সময় ছিলাম ঘিরে।
কচিকাঁচার দিন
যদি আমার ত্বকের রঙ হতো সবুজ।
রক্তে থাকত ক্লোরোফিল
মুকুট থেকে সরিয়ে রাখতাম কোহিনূর।
অথচ আমার রক্তে হিমোগ্লোবিন
নেইলকাটারে কাটতে থাকি বৃদ্ধি।
আমার কোয়ায় কোয়ায় জমে থাকে অতীত
প্রজন্ম থেকে প্রতিজন্ম।
প্রেম, মানব মানবীয় কিছু না
আলো না, সন্দেহ করলে তার উৎসকে
মরে যায় কচিকাঁচার দিন।
প্রচ্ছদ । সুবন্ত যায়েদ