ইশতিয়াক ফয়সলের কবিতা

0

উদ্বায়ী বয়সের মেঘ আরও ঘনীভূত হলে
অভিজ্ঞতার সূর্যালোক তা ভেদ করে
আর জীবনের মাটিতে পড়ে না ।

আমাদের বয়েস বাড়ে সংখ্যায় সংখ্যায়
ইশকুল, আদালত, আপিসের নিয়মিত হাজিরায়।

তবে আসুন, এই রোদেলা বৃষ্টির দুপুরে
হয়ে যাক এক কাপ কফি অথবা চা
করা যাক কিতাবুল আযিফের
বাছাইকৃত অংশের তাফসির ও তরজমা—
প্রতিটি শিশু ও নারীর লাশে
যারা দ্যাখে সন্তান ও প্রেয়সীর অবয়ব
প্রতিটি হত্যাকাণ্ড যাদের কাছে খুনিরই আত্মহনন
আর, যারা বলে অর্থনীতিই পৃথিবীর সফলতম আদি ধর্ম—
তোমরা কি তাঁদের
আইনসম্মত নজরদারির আওতাভুক্ত রেখেছো?

তারপর অকালবৃদ্ধা প্রিয়তমার
যোনিপথের মতোন শুকিয়ে যায়
বিপ্লবী বইপুস্তক, কবিতার খাতা
ঘরকুনো বুড়ো গিটার

প্রতিটি সফল ব্যবসায়ী ও ক্ষমতাধর রাষ্ট্রনায়ক
দেহের খোলসে বয়ে ব্যাড়ায় এক এক জন কবির মৃতদেহ
যে প্রতিটি পরাজিত মানুষ ও গণহত্যার জন্য
কোনো শোকগাঁথা গেয়ে ব্যাড়াত—
নগরের অলিগলিতে
গর্ভবতী পাগলীনি হয়ে হয়ে।

যে সুচারু সৈনিকের চোখ বিদ্ধ করে
নিশানার মগজ ও হৃদপিণ্ড
আঙুলের শৈল্পিক স্থিরতায়
সে চোখ কি ভাসে নাই
স্বজনের স্বাভাবিক মৃত্যুর মাতমে?
সে আঙুল কি ছোঁয়নি
কম্পিত হাতে
মাতৃস্তন প্রবল অসহায়ত্বে?

যে অত্যাধুনিক বুলেট বিদ্ধ করে
শিশুদের নরোম মাংস, অস্থি
বলুন, তাও কি অংশ নয় আদি সৃষ্টির প্রথম স্বরাঘাতের?
যেহেতু শক্তির কোনো সৃষ্টি ও বিলোপ নাই?

আর, যারা নীরব ও বিচারহীন সমাজে
চলন্ত বাস থেকে অনুপ্রবেশকৃত ঘরে
লুটপাট, আগুন, খুন ও ধর্ষণ চালায়
পেশাদার নৈপুণ্যে—
তারা শরণার্থী হবে, সুনাগরিকসহ
প্রতিবেশী সৈন্যের আক্রমণে

যে মাতঙ্গী ভিখারীনির নাভীর পাথর
জমে জমে হীরকখণ্ডে রূপান্তর হয়—
তার গর্ভজাত তৃতীয় ক্রমিক লিঙ্গহীন জারজ
তাদের রাজনৈতিক মুক্তির সংবাদ নিয়ে আসবে

তবু, অজাচারী রাজনীতি প্রসূত প্রতিদিনে
পৌনঃপুনিক কর্ম জীবনের ফাঁকে ফোঁকরে
ল্যুদমিলার দেখা না পাওয়া ভেজা দুপুর উঁকি দেয়
কাফ্রি মায়ের স্তনে আঁকা, ব্যর্থ্য বিপ্লবের উল্কির মতোন…
অসাবধানবশত একটি ঝলক

হেরে যাওয়া নিষিদ্ধ, যে সময়ের স্রোতে—
তারই বিপরীতে, চলে যাওয়া যা কিছুর চিহ্ন এঁকে বুকে
ওয়াপদা কলোনির
স্মৃতিবিধ্বস্ত উদ্বিগ্ন বৃক্ষের মতো ঠায়—
কিছু মানুষ আজও দাঁড়ায়, আশাবাদী বুক পেতে
শঙ্খের মত করুণ সন্ধ্যায়… কিসের আশায়?

পাঠপ্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য
Share.

Comments are closed.