রফিক জিবরান এর কবিতাগুচ্ছ

0

বিষাদ রোগের চিকিৎসা

আমার অ-সুখের দিনগুলিতে
বই আর পানীয় হাতে বন্ধুরা ফিরে আসে,
বাতাসে ভাসে পাখিদের শিষ,
বিকারগ্রস্ত দেবতারাও তখন হয়তো ঈর্ষায় পুড়ে।

বন্ধুরা তবু জানতে চায়—
কী চাও তুমি?
কীসে হবে এই বিষাদ রোগের অবসান?

উত্তরে, আমি একটা মিহিদানা আওড়াই—
মৃত্যু অথবা পাখির ডানায় গেঁথে থাকা জাদুর উড়ালে,
অথবা প্রিয় বন্ধুর সঙ্গমাধুর্যে।

অবশ্য, তারা চলে গেলে নিজেকে একান্তে বলি—
কান্তার ঠোঁটই কেবল বিষাদরোগের শুশ্রূষা জানে।

সামান্য ভিক্ষুক

কাব্য-পানাহার; চুম্বনপর্ব শেষে একদিন; কান্তা বলল হেসে,
বলো তুমি— সাধুভণ্ড আধাসিকি!
কে এই দুনিয়ার মহত্তম ভিক্ষুক?

আমি না-জানি তৃষ্ণার তল, না আমি প্রজ্ঞাবান,
তবু তাকে বলি—
ভিক্ষুক সেই— দেহেরও অধিক বাণ মনে যার ডাকে— অতৃপ্তির।
আমিও যেমন তৃষ্ণায় মরি- নিজগৃহ বাসনার।

তবুও সে বলে—
‘হৃদয়ের দ্বারে দ্বারে সকল প্রশংসার দাবি জানায়’ কে?

মরিয়া চেষ্টায় শেষে তাকে বলি—
সেবকেরও আছে কিছু হক—
তোমার রূপের সেবক হিসেবে আমিও এক সামান্য ভিক্ষুক!
পথিক ও প্রেমিক

পথিক ও প্রেমিক— দুজনাই হাঁটে সাধনার পথে।
কেউ অল্পের, কেউবা মুসাফির— দূর পথের।

তুমি কতটা পথের প্রেমিক?
গোলাপের কাঁটায় কান্তা হঠাৎ বিদ্ধ করল আমায়।

থতমত খেয়ে বললাম, আমি—
কখনো আগুনের বাসনায় পুড়ি,
কখনো ছাইয়ের প্রেমে উড়ি।
এখন তুমিই বলো কান্তা—
আমি, কতটা কাছের প্রেমিক?
একবার চেটেপুটে খাওয়ার সুযোগ

একদিন নিজেকেই বললাম প্রবল অভিমানে—
কী দরকার মনোরম বাগিচার, কান্তার পরশ যদি না-ই মেলে?
মরূর কর্কশ ঝড় অনেক ভালো— যদি পাই তেমন পানীয়।
ক্ষুধার্তকে দায়ী করা যায় না তার ক্ষুধার জন্য—
একবারতো চেটেপুটে খাওয়ার সুযোগ দাও!

প্রশ্রয়

এটাই সত্যি, মহাপ্রকৃতি!
তোমাকে ভালবাসি,
এই দেখ; চাঁদসূর্য সাক্ষী।

মৃদু হেসে বললেন তিনি—
আর কী সত্য জানো তুমি?

তুমি—
সরল প্রশ্নকারীদের নাজেহাল করো
বোকাদের প্রশ্রয় দাও,
আর, অন্তরালে থেকে অন্তরে অন্তরে জাগাও সন্দেহ!
তোমাকে তবু ভালবাসি
এটাই বড়ো সত্যি—
নদী, দূর্বাঘাস, সজনেপাতা সকলেই সাক্ষী। 

আর কী সত্য জানো তুমি— বোকা বা সরল?

তুমি—
জানো না কিচ্ছুই,
সকলের জানাটাই তোমার সত্যি,
আমি ভয়ে ভয়ে বলি।

তাঁর চোখে দেখি প্রশ্রয়ের হাসি।

পাঠপ্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য
Share.

Comments are closed.