দিপংকর মারডুক এর কবিতা

0
Showing 1 of 1

**
তুমি অবান্তর করে দিতে পারো সহজ কোনো জঙ্গলের মহাবার্ত—
কিংবা সব থেকে প্রতিবিম্ব; দ্রোহকাল নিতান্তই মনে রাখে তোমার চলে যাওয়ার সুতোখালি দূরত্ব। —করি সংকোচন ; আরো আরো অব্যক্ত স্মৃতিকাতরতার। যারা পায় স্রোতে ভাসা দোল কলমির মতো পূর্ণজন্ম।

কোথায় কোন সমার্প্তিকা? বর্ষণ দেখাও মেঘের সান্নিধ্যে এসে।
তোমাকে শুনেছি পোড়ামাটি গন্ধ— মায়ের মতোই অনায়াসে তুমি বরেন্দ্র। তুমি তো পরিধেয়, শীর্ষে অঙ্কিত কৌটিল্যের সূত্র। তুলোজাত বর্ণ থেকে তৈরি করো তলোয়ার কি এলোপাতাড়ি ময়দান!

যার ছিলো সুতো বাঁধা গিট— ঝংকারে ঝংকারে গাও গান ও প্রার্থনা অবধি। তবুও এখানে পুতুল খেলে জাদুকর ; আঙিনায় দাঁড়ায় মেঘ ও ময়ূরের ছদ্মবেশী নীলজল। কাকে তুমি সহজ করবে, বিষণ্ণ পাহাড় অথবা অশ্রুত ঝরনার নিথর?

**
ক্রমশ পায়ের শব্দ দ্যাখো; উর্ধ্বে তার নীলাভ,প্রাজ্ঞ কোনো কারুকার্যময় জিরাফের তনয়। যে পাখি রাস্তা খোঁজে নিরুপায় অথচ নিদ্রিত স্তন তার শৈবালের আঁশটে কেন এতো নিঃসাড়?
হয় না খরগোশের সম্ভাষণ। বর্ণবিদ্যা আঁকে নিঝুম কার্পাসের মতন অন্তর্বাস। তবে কি সবটুকু রঙের স্পন্দন— তবু দ্রুততার অন্ধকারে সরস হয় বালিকা-বয়স!

কি যেন ইলিশের মতন রাত্রি। বিচিত্র গ্রীবা, নাভিমূল, শিক্ত সুঠাম বুক কিংবা শ্বাসরুদ্ধ প্রাপ্তবয়স্কা প্রেমিকার মুখ। গণিকালয় আমাকে করে ভর্ৎসনা, ঠেলে দেয় নগরের শুদ্ধতম লাশঘরে। ওরা চায় গাছের অহংকার, অমুদ্রিত রূপসা রমণের দুপুর-গন্ধ স্নান— তাবৎ শেষ হওয়ার আগে আগে উৎকট নির্ভুলতা।

এমন সব দৃঢ়তা ; হে বিনাশ, তোমার নিবিড়তায় খুলে দ্যাখো মড়কের চুম্বনে লেখা আছে অনবদ্য শাদাকালা পৃষ্ঠা। যারা প্রণয়সমেত ঘরে তোলে গ্রীষ্মের তরমুজ খেত।
কাকে তুমি বলো বনস্পতি, ক্ষুণ্ন ত্বকের অতিথিশালা। আমি তো মাঘের নাবিক— বিবর্ণ ডাকহরকরার ক্লেদ ও তৃষ্ণা ফেরি করি নীল স্তনভার অবধি—

**
পথ থেকে বের হয়ে কাঁপছে যথার্থ জলাভূম। কি আশ্চর্য তার কূলদীক্ষা, ঋতুচক্রকারী চাষের মৌনতা। আমি চিবাতে থাকি সমাধি থেকে পিঁপড়েদের সুইসাইড নোট। আসুক সে মৃদু পদ্মগোখরা—আছি নিচ্ছিদ্র শুয়ে রুগণ নাশপাতির অতিক্রমে। যেখানে পালকমাটি, পরাজিত সীতাপথ এবং স্বয়ং আমি— জন্মান্তরবাদের কথা ভাবি।
যেন সূর্যের নিচে যাই। তাবৎ বিলাপ করে গৃহস্থালি কুকুর। কীরকম অবতারণ থেকে হাঁটি মাতাল মাতাল, এই দ্যাখো নিষিদ্ধ আষাঢ় সোমপাত্রের ডালপালা সমতে শুষে নেয় কৃষ্ণ চয়নের শহর।

এই তো দূরস্থ, মিথ্যের ডানা ঝাপটানো। তবু কেন সময়ের লক্ষমুণ্ড খোলে মা প্রজাপতির শ্রীযুক্ত ফণা।
আমি তার রোদে ডুবি কবিতার মতো—তোমার শোকপ্রস্তাবিত বরুণ হাতে। কিনতু কি কোমল অগ্নি, কুসুমের শূন্যতা লাভ! নিতান্তই দ্যুলোকের দিকে গেছে যজ্ঞের বহুরূপ ঘোড়া। আঁধার যাদের তীর্থের পঙক্তিতেও অর্ধনমিত।

পাঠপ্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য
Showing 1 of 1
Share.

Comments are closed.